সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর আটক জন্মজয়ন্তীতে কবি নজরুল ইসলামকে স্মরণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত, অটোরিকশার চাপায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর পুশইনে মরিয়া বিএসএফ, সীমান্তে উত্তেজনা মে মাসে গণপিটুনি ও সহিংসতায় নিহত ৩১, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী ও শিশু বাদাম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও ফলন নিয়ে শঙ্কা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়ম, ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিতরা টাঙ্গুয়ার হাওরে নিভে গেল ছোট্ট সৌম্যতার জীবনপ্রদীপ তাহিরপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এমপি কামরুল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা

হাওরের বাঁধের টাকায় রাস্তা : দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

  • আপলোড সময় : ১১-০৩-২০২৬ ০১:২০:৪৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-০৩-২০২৬ ০১:২০:৪৪ পূর্বাহ্ন
হাওরের বাঁধের টাকায় রাস্তা : দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। প্রতিবছর এখানকার কৃষকরা আগাম বন্যার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে বোরো ফসল উৎপাদন করেন। সেই ফসল রক্ষার জন্য সরকার বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেয় ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য - এই গুরুত্বপূর্ণ খাতেও দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে হাওরের বাঁধের বরাদ্দ থেকে অন্তত শতাধিক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে প্রায় ২০ কোটি টাকা অপচয়ের অভিযোগ আবারও সেই পুরোনো চিত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, যেখানে হাওরের বাঁধের প্রয়োজন নেই, সেখানেও প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এমনকি কৃষকের ফসলরক্ষা বাঁধের বরাদ্দ ব্যবহার করা হয়েছে গ্রামের সড়ক, ব্যক্তিগত রাস্তা কিংবা অপ্রাসঙ্গিক উন্নয়ন কাজে। দোয়ারাবাজার উপজেলার বাদে গোরেশপুর গ্রামে হাওরের বাঁধের কোনো প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও ২২ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদনের ঘটনা প্রশ্ন তুলেছে প্রকল্প বাছাই প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সততার ওপর। সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই প্রকল্পে যথাযথ কাজও হয়নি। মাত্র ৫-৬ ইঞ্চি মাটি ফেলে দায়সারা কাজ দেখিয়ে প্রকল্পের বরাদ্দ আত্মসাতের পাঁয়তারা চলছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, বড়জোর এক লাখ টাকার কাজ করে বাকিটা আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এটি কেবল একটি উদাহরণ। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একই ধরনের অসংখ্য প্রকল্পের অভিযোগ উঠে এসেছে, যেখানে প্রকৃত প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। হাওরের বাঁধ প্রকল্পের ক্ষেত্রে অতীতে বহুবার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আগাম বন্যায় ফসলহানির পর তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার। কিন্তু বাস্তবে দৃশ্যমান পরিবর্তন খুব কমই হয়েছে। ফলে একই চক্র বারবার নতুন নামে, নতুন কৌশলে সরকারি অর্থ লুটপাটের সুযোগ পাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- যে অর্থ কৃষকের ফসল রক্ষার জন্য বরাদ্দ, তা অন্য খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি শুধু নীতিমালা বিরোধী নয়, কৃষকের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা। কারণ একটি দুর্বল বা অপ্রয়োজনীয় বাঁধ প্রকল্পের কারণে যদি হাওরে ঢলের পানি ঢুকে পড়ে, তাহলে হাজার হাজার কৃষকের এক বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই শেষ হয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। প্রকল্প অনুমোদনের আগে প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই করা, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং বরাদ্দের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। যদি কোথাও ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি এবং সুবিধাভোগী সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ইতোমধ্যে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু সামাজিক আন্দোলন নয়, রাষ্ট্রকেও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। কারণ হাওরের বাঁধের টাকা কোনো ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর লুটপাটের স¤পদ নয় - এটি দেশের কৃষক ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সরকারের উচিত দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলার সব প্রকল্প যাচাই করা। যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে বরাদ্দ বাতিল এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্নীতি রোধে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। হাওরাঞ্চলের কৃষকরা প্রতি বছর প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেন। তাদের সেই সংগ্রামের পেছনে রাষ্ট্রের যে সহায়তা থাকার কথা, সেটি যদি দুর্নীতির কবলে পড়ে, তাহলে তা শুধু একটি অঞ্চলের ক্ষতি নয় - পুরো দেশের জন্যই অশনিসংকেত। এখনই সময় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার, নইলে হাওরের বাঁধ নয়, দুর্নীতির বাঁধই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স